কাহারোলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস ভয়ংকর চক্র ফাঁদ,প্রধান শিক্ষক অন্য জেলায় নৈশ প্রহরী

প্রকাশিত: 03 Dec 2025, 17:47
মো: জয়নুল আবেদীন বাপ্পী দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি। দিনাজপুর কাহারোল উপজেলা "ডাঙ্গাপাড়া চক্রপ্রাণ কৃষ্ণ কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক" একটি বিদ্যালয় অবস্থিত রয়েছে। উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল,স্বল্পব্যায়ী কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রকল্পের আওতায় ৩ টি বিদ্যালয় ভবন ১৯৯৪ ইং সালে নির্মাণ হয়।এছাও প্রতিষ্ঠাকালীন ১৯/১/১৯৯৫ ইং সালে ২ জন শিক্ষক আব্দুর রফিক ও কারিমা খাতুন নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে এম,পিও ভুক্ত হয়েছিল। পরবর্তী ১/১/২০০৮ ইং সালে শিক্ষক করিমা খাতুন শিক্ষকতা ছেড়ে ইস্তফা দিয়ে চলে যান। ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টি অবস্থিত ৩৩ শতাংশ জমির উপরে এবং দলিল রয়েছে যার নাম জারি, মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর নামে। এছাড়াও বিদ্যালয়টি ২/৪/২০১৪ ইং তারিখে জাতীয়করণে আদেশ প্রাপ্ত হয়েছিল।শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় তথ্যসহ জটিলতা থাকায় বেতনভুক্ত গেজেট প্রকাশ কার্যক্রম সম্ভব হয়নি। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক গোপন তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়,২০১০ সালে তিনি এই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ তার নিজ জেলায় চলে যান,এবং সেখানে তিনি আট ও পনেরো রশিয়া আনক কারিগরি দাখিল সরকারি মাদ্রাসায় এম,পিও বেতন ভুক্ত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈশ প্রহরী পদে কর্মরত রয়েছে এছাড়াও নিয়মিত বেতন পান তিনি। এ দিকে তিনি ডাঙ্গাপাড়া চক্রপ্রাণ কৃষ্ণ কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও রয়েছেন। তথ্যে জানা যায়, হাজিরা খাতায় গত ৩-৪ মাস উপস্থিত নেই তবে প্রধান শিক্ষক,তিনি বছরে ৩-৪ বার আসেন হাজিরা সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সই করে চলে যান প্রধান শিক্ষক কি দারুন এক প্রতারণা চক্রান্ত ঐ শিক্ষকের। বর্তমান ওই প্রতিষ্ঠানে ৪ জন শিক্ষক তালিকাভুক্ত রয়েছে,প্রধান শিক্ষক আব্দুল রফিক,সহকারী শিক্ষক মহসিন আলী,হেম প্রবা রায়,শাহনাজ পারভিন বিভিন্ন সালে যোগদান করেন সহকারী এই ৩ শিক্ষক। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩১ বছর অতিক্রম করেছে, শিক্ষার নামে চলছে প্রতারণা,প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত কাগজ কলমে নেই শিক্ষাব্যবস্থা সহ নেই কোন কার্যক্রম। গত ১৫ বছরে পঞ্চম শ্রেণী উত্তীর্ণ কোন শিক্ষার্থী নেই ওই প্রতিষ্ঠানে। অথচ কাগজ কলম বলছে শতভাগ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যক্রম সচল হয়েছে। ভুয়া শিক্ষার্থীর নাম হাজিরা খাতা তালিকায় উল্লেখিত শিক্ষার্থী রয়েছে। গোপন চক্র দ্বারা ওই প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম সচল দেখানো হয়েছে,যার তদারকি দায়িত্ব পালনে, মাকলাফাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান। তার নিজ ছোট ভাই মহসীন আলী সহকারী শিক্ষক ১৯/৫/২০০৫ সালে যোগদানের তারিখ উল্লেখ রয়েছে, তবে ২০১০ সালের পরে সে যোগদান করেন চক্র মারফতে।ঐ তদারকি মারফত প্রধান আরেক উৎস তার ছোট ভাইকে নিয়োগ করিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের চক্র দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়াও গোপন সূত্র জানা যায়,আরো বাকি দুই সহকারী শিক্ষক কে নিয়োগ করেন,আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে যোগদান করিয়েছেন ঐ চক্র।যোগদান করেন ২০১২ সালে তবে কাগজ-কলম বলছে, হেবা রায় ১৯/৫/২০০৫ ইং তারিখে এবং শাহনাজ পারভিন ১৪/২/২০০৮ ইং তারিখে বাস্তবতায় মিল নেই যোগদান কার্যক্রম বাস্তবতা পরে যোগদান করলেও অতীতে যোগদান তারিখ উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ চেষ্টায়, চক্র দায়িত্ব পালনে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ চেষ্টা করলে, তিনি বিভিন্ন তালবাহানা দেখিয়ে করে বাইরে তদারকি চালিয়ে যান বিভিন্ন মারফতে।একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা অবলম্বন করলেও সম্ভব হয়নি কারো সাথে সাক্ষাৎ না চক্র না ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে। এমন তথ্য নিশ্চিত জেনেও, শিক্ষা অফিসারের এক তদন্তের এক রিপোর্ট বলছে, ৫ ই আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর,২০/৮/২০২৪ ইং প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে, ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ কার্যক্রম সচল সহ শিক্ষক উপস্থিত।তা নিশ্চিত তদন্ত মর্মে ১০-৯-২০২৪ ইং তারিখে একটি সুপারিশ রিপোর্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর তথ্য সুপারিশ রিপোর্টে উল্লেখ করে তা প্রদান করেন।যে তথ্য বাস্তব প্রমাণে প্রতারণা রিপোর্ট প্রমাণিত হয়। প্রতিষ্ঠানের সরজমিন তদন্ত করলে, দুইজন সহকারী শিক্ষক উপস্থিত,৭,৮ জন শিক্ষার্থী দুপুর ১ বাজে শ্রেণিকক্ষে নেই কোন বই খাতা শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতায় শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা কালীন প্রধান শিক্ষক এখনো নিয়মিত কাগজ কলমে উপস্থিত প্রধান শিক্ষক। তবে,এলাকায় নেই তিনি গত ১৫ বছর ধরে অন্য জেলায় নৈশ প্রহরী দায়িত্ব পালন যা সরকারি বেতনভুক্ত। প্রতারণায় শিকার হয়ে,শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে শিক্ষার নামে ওই প্রতিষ্ঠানে,পরিকল্পিত চক্রান্ত জড়িত থাকার কারণে। ৩১ বছরেও আজও সম্ভব হয়নি শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ও আত্মীকরনে। যার ফলে নির্মম অবহেলায় অবহেলিত ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব সত্য গোপন রেখে,মিথ্যা তথ্য চক্র আশ্রয় দিয়ে সহযোগিতা করে শিক্ষা অধিদপ্তর তা প্রকাশ্যে জানা যায়।এই চক্র বিষয়ে কোন প্রকার অবগত নয় মর্মে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিন্নাত আলী।
📘 ফেসবুক ▶️ ইউটিউব