আওয়ামী লীগের দোসর বাহিনী নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার জিপ শনের কাজের আড়ালে চলছে দুই বন্ধু রিয়াদ ও শামিমের জমজমাট ইয়াবা ও ফেনসিডিল সহ নানান ধরনের মাদক ব্যবসা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজী বাতেন পাড়া কেনাল পার আলামীন নগর, পাগলা বাড়ি, রহমত নগর, মতিন হুজুরের বাড়ির সংলগ্ন আশেপাশে মজিব বাগ এলাকা, ও সিদ্ধিরগঞ্জ পুল বড় কবরস্থানে পাশে ইসলাম মেম্বারের বাড়ির সংলগ্ন এলাকার অলিতে গলিতে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক ব্যবসায়ী হাবুলের ছেলে শামীম ও তার বন্ধু মোবারক মোল্লার ছেলে রিয়াদের ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ যে কোন ধরনের মাদকদ্রব্য পাইকারী ও খুচরা দেদারসে বিক্রি।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই মাঠ পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী আগের মতো সক্রিয় নেই।
যদিও কিছুটা পুলিশের চলমান কার্যকরম থাকে তাহলে তারপরও এখন কিছু অসাধু পুলিশ অফিসার এবং
পুলিশ সোর্সদের ম্যানেজ করে চলছে রিয়াদ এবং শামিমের জমজমাট মাদকের রাজত্ব।
এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় অবাধে চলছে মাদক কারবারি রিয়াদ এবং শামিমের রমরমা নানান ধরনের মাদক ব্যবসা।
রিপোর্টঃ মহা রানি।
ক্রাইম রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ।
মাদকের করাল গ্রাসে আসক্ত হয়ে ডুবে থাকছে এলাকার উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত শ্রেণির হাজারো মানুষ।
এ তালিকায় রয়েছে উঠতি বয়সী যুবসমাজ, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১ নং ওয়ার্ড এলাকা জুড়ে মাদকসেবীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
এলাকায় উঠতি বয়সী তরুণ ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের মাঝে মাদকসেবীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠায় আছেন অভিভাবকমহল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময় এইসব এলাকায় ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ব্যবসা বন্ধ ছিল তারপর আবার এরা দুজন সহ আরও কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী মিলে মাদক ব্যাবসা চালু করেছে।
তাও বেচাকেনা হতো খুব গোপনে।
এখন গাঁজা- ফেনসিডিলের পাশাপাশি চলছে মরণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেটের রমরমা ব্যবসা।
যা প্রকাশ্যে বিক্রি করছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সিদ্ধিরগঞ্জ পুল বড় কবরস্থান এলাকার সরক পাড়ার হাবুলের ছেলে শামীম ও তার বন্ধু মোবারক মোল্লার ছেলে আওয়ামী লীগের দোসর তেরা মার্কেটের জালালুদ্দিনের শালা রিয়াদ।
শুধু তাই নয়, এসব ইয়াবার ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছেন প্রভাবশালী পরিবারের অনেক তরুণ যাদের প্রতিরোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশ র্যাব-১১ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ প্রশাসন।
স্থানীয়রাও ভয়ে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারছেন না।
ফলে এখন অবাধে চলছে মাদক কেনা-বেচা।
মাদক কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িতদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
সচেতন নাগরিক সমাজ মাদকের এই ভয়াল থাবা থেকে নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, যুবসমাজের একটি বড় অংশ মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে।
নেশায় আসক্ত এসব যুবক মাদকের টাকা জোগাড় করতে জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাই, হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকাজুড়ে প্রায়ই ঘটছে দিনদুপুরে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা।
সবমিলিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছেন অভিভাবকরা।
তাদের অনেকেই নেশায় আসক্ত সন্তানদের সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন।
এলাকায় প্রশাসনের তৎপরতায় মাদক উদ্ধার এবং মাদক ব্যবসায়ী আটক না করা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মানুষ।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহিনুর আলম বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমরা আগেও সোচ্চার ছিলাম এখনও আছি।
চলমান পরিস্থিতিতে আমাদের পুলিশ সদস্যরা কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল।
আশা করছি, দ্রুতই আমরা মাদকের বিরুদ্ধে পুরো উদ্যোমে কাজ শুরু করব।
