“অবহেলার চার দশক—কাহারোলের উন্নয়ন কে করবে? আগামী নির্বাচনে উত্তরের অপেক্ষায় ভোটাররা”
দিনাজপুরের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ কাহারোল উপজেলা। মুঘল আমলের নয়াবাদ মসজিদ, আদিবাসী সংস্কৃতির বিস্ময়, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, উর্বর কৃষিজমি এবং উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় পশুহাট—সব মিলিয়ে কাহারোল এক সম্ভাবনার ভূমি। কিন্তু উন্নয়নের মানচিত্রে এই উপজেলাটি বছরের পর বছর ধরে রয়েছে সবচেয়ে অবহেলিত তালিকায়।
উপজেলা প্রতিষ্ঠার চার দশক পেরিয়ে গেলেও এখনো গড়ে ওঠেনি একটি পৌরসভা—যা স্থানীয়দের মতে সবচেয়ে বড় বঞ্চনার শিকার হওয়ার কারণ। পৌরসভা না থাকায় উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—সবই রয়ে গেছে দীর্ঘদিনের পিছিয়ে থাকা বাস্তবতায়।স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিনাজপুরের বড় উপজেলার একটি কাহারোল, তবুও নেই পৌরসভা। এটা আমাদের জন্য লজ্জা, বঞ্চনা আর কষ্টের ইতিহাস।”যোগাযোগ-ব্যবস্থাও এখানে দুঃসহ। জেলার বড় অংশ রেলযোগাযোগে যুক্ত হলেও কাহারোলে আজও কোনো রেললাইন স্থাপিত হয়নি। উপজেলার অভ্যন্তরে অনেক সড়ক এখনো ভাঙাচোরা বা কাঁচা, বর্ষাকালে যেগুলো চলাচল-অযোগ্য হয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে কাহারোলবাসীর বহু বছরের দাবি—পৌরসভা ঘোষণা , সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন , উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় পশুহাটের উন্নয়ন , পর্যটন খাতে সরকারি বিনিয়োগ , শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবকাঠামো সম্প্রসারণ।
আগামী নির্বাচন—নতুন উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির সম্ভাবনা, নাকি একই অবহেলার পুনরাবৃত্তি? কাহারোলবাসীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন—
আগামী নির্বাচনে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তারা কি পারবে এ উপজেলাকে অবহেলার অন্ধকার থেকে বের করে আনতে?
ভোটারদের আশা, প্রার্থী যেই হোন, দল যেটাই হোক কাহারোলের উন্নয়নই হবে তাদের মূল অঙ্গীকার।
স্থানীয়রা মনে করেন, সময় এসেছে উন্নয়নের দাবি নিয়ে আরও উচ্চকণ্ঠ হওয়ার। কারণ এই ইতিহাসবাহী ও সম্ভাবনাময় কাহারোল আর অবহেলায় পড়ে থাকতে চায় না।
মো:জয়নুল আবেদীন বাপ্পী দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি।
