নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরে প্রকাশ্যে স্বামী-স্ত্রীর জমজমাট মাদক ব্যবসা নিরব ভূমিকা প্রশাসনের।
সাংবাদিককে হুমকি, রাহাত-তানিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে এলাকার স্থানীয়দের ক্ষোভ।
নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন বেপারীপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে স্বামী-স্ত্রীর জমজমাট মাদক বাণিজ্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্দর এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী রাহাত (৪২) ও তার স্ত্রী তানিয়া আক্তার (৩০) দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত।
একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদকসহ আটক হলেও থামেনি তাদের মাদক ব্যবসা।
বরং দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে তাদের সিন্ডিকেট।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাহাত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একটি বড় মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছে।
তার রয়েছে একাধিক আস্থানা ও সহযোগী বাহিনী, যারা খুচরা ও পাইকারি মাদক সাপ্লাইয়ের কাজ করে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, রাহাত ও তানিয়ার মাদক ব্যবসা নিয়ে কেউ মুখ খুললে বা প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে উল্টো হামলা ও মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়।
সম্প্রতি এক সাংবাদিক তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন রাহাত ও তার স্ত্রী তানিয়া।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষরা এই স্বামী-স্ত্রীর অবৈধ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা দাবি করেছেন।
তারা আরও বলেন, এদের শেল্টারদাতা যারা, তাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এছাড়া রাহাত ও তানিয়া দম্পতির মোবাইল কললিস্ট সংগ্রহ করে কল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মাদক সিন্ডিকেটের অন্য সদস্য ও ডিলারদেরও চিহ্নিত করা জরুরি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরবাসীর দাবি,
নারায়ণগঞ্জ জেলা র্যাব-১১, জেলা ডিবি পুলিশ ও বন্দর থানা পুলিশ যেন রাহাত-তানিয়া দম্পতিকে দ্রুত গ্রেফতার করে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা কার কার আশ্রয়ে এই মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে এবং তাদের শেল্টারদাতা কারা তা উদঘাটন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন,
“পুলিশ নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। এটি আমাদের রুটিন ওয়ার্ক।
মাদকের সঙ্গে জড়িত যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ইতোমধ্যে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের তালিকা তৈরি করে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।”
