সুন্দরবনে পর্যটন জাহাজ দুর্ঘটনা: ৪৪ জন উদ্ধার, সবাই নিরাপদ কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি—কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশিত: 04 Jan 2026, 15:24
সুন্দরবনে পর্যটন জাহাজ দুর্ঘটনা: ৪৪ জন উদ্ধার, সবাই নিরাপদ কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি—কর্তৃপক্ষ মোঃ আবু বকর সিদ্দিক মোংলা (বাগেরহাট) সুন্দরবনে পর্যটন শেষে ফেরার পথে ‘এমভি পাইরেটস সুন্দরবন’ নামের একটি পর্যটন জাহাজ দুর্ঘটনার কবলে পড়লেও এতে থাকা ৪৪ জন যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানি কিংবা বড় ধরনের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘটে গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে। দাকোপ থানার করমজল ও সাইলোর মধ্যবর্তী নদীপথে চলাচলের সময় পর্যটন জাহাজটি একটি বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের ফলে জাহাজের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেতরে পানি প্রবেশ শুরু হলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রাত ১১টা ২৫ মিনিটে নৌ-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানে জাহাজে থাকা মোট ৪৪ জন যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দুইজন বিদেশি পর্যটকও ছিলেন। দাকোপ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধার তৎপরতা ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও দ্রুত। এ বিষয়ে মোংলা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) এ, এইচ, এম লুৎফুল কবীর বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছি। নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। আল্লাহর রহমতে সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি, যা আমাদের জন্য বড় স্বস্তির।” তিনি আরও বলেন, জাহাজটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরনের কোনো আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে জান্নাতুল ফেরদৌস নামে একজন সরকারি কর্মকর্তা ও তাঁর সঙ্গে থাকা ১৮ জন সঙ্গীও ছিলেন। উদ্ধার শেষে সবাইকে প্রথমে মোংলা নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে আনা হয় এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। এ উদ্ধার অভিযানে করমজল টুরিস্ট পয়েন্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরাও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, আরডি ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ‘এমভি পাইরেটস সুন্দরবন’ পর্যটন জাহাজটি গত ২ জানুয়ারি রাত ১টায় খুলনার কেএমপি জেল ঘাট থেকে সুন্দরবন ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথে আন্দরমানিক, কটকা, হিরণ পয়েন্ট ও দুবলার চর পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হয় জাহাজটি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
📘 ফেসবুক ▶️ ইউটিউব