কাপ্তাই  কার্গো ট্রলি: শুরুতে টন প্রতি ৪ আনা ভাড়া হলেও বর্তমানে টন প্রতি ভাড়া ২৫ টাকা।

প্রকাশিত: 05 Feb 2026, 19:03
কাপ্তাই  কার্গো ট্রলি: শুরুতে টন প্রতি ৪ আনা ভাড়া হলেও বর্তমানে টন প্রতি ভাড়া ২৫ টাকা ঝুলন দত্ত, কাপ্তাই ( রাঙামাটি)  প্রতিনিধি: কাপ্তাই লেক হতে মালবাহি কার্গো ট্রলি  দিয়ে বাঁশের চালি, কিংবা নৌকা বা কাঁচামাল পার করে  কর্ণফুলি নদীতে ফেলা হচ্ছে। মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিট এর মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। এই দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার নতুনবাজার এলাকা সংলগ্ন কার্গো এলাকায়। কাপ্তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে  মালবাহী এই কার্গো ট্রলি দিয়ে বিগত ৬৪ বছর ধরে এই কাজটি করা হচ্ছে। ১৯৬২ সালে যখন কাপ্তাই বাঁধ উদ্বোধন করা হয়, তখন হতে এই কার্গো ট্রলি করে লেক হতে কর্ণফুলি নদীতে বাঁশ, কাঁচামাল এবং ছোট ছোট নৌকা পার করা হচ্ছে। শুরুতেই টন প্রতি ৪ আনা ভাড়া হলেও বর্তমানে টন প্রতি ভাড়া ২৫ টাকা বলে জানান কাপ্তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কর্মরত ক্রেন অপারেটর জাকির হোসাইন।  বুধবার ( ৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কার্গো এলাকায়  কথা হয় ক্রেন অপারেটর জাকির হোসাইন এর সাথে। তিনি বলেন,  ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের আইয়ুব খাঁন সরকার  কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য   কাপ্তাই বাঁধ তৈরী করেন।  তখন থেকে নতুনবাজার এলাকায়  এই কার্গো ট্রলি নির্মাণ করা হয়।  এই কার্গো ট্রলি দিয়ে  কাপ্তাই  লেক হতে কর্ণফুলি নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির  বাঁশ, কাঁচামাল এবং ছোট ছোট নৌকা পার করা হচ্ছে। শুরুতেই টন প্রতি ৪ আনা ভাড়া হলেও বর্তমানে  টন প্রতি ভাড়া ২৫ টাকা। তিনি আরোও বলেন, এই বাঁশ একসময় পাকিস্তানের করাচি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হতো। বর্তমানে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান,  চট্টগ্রাম এমনকি রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও বাঁশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।  এই সময় কথা হয় শ্রমিক মো: ইউনুছ এর সাথে, যিনি বিগত ৩০ টি বছর ধরে এই কার্গোতে শ্রমিক হিসাবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, রাঙামাটির মারিশ্যা, মাইয়ানি, হরিনা, বরকল, ফারুয়া, কাচালং হতে বাঁশের চালি  এসে এই কার্গো এলাকার ভীড়ায়৷ আমরা শ্রমিকরা লেক হতে কার্গোতে বাঁশ তুলে দিই, তারপর বাঁশ গুলো কর্ণফুলি নদীতে ফেলা হয়। এখানে ৪০ জনের মতো শ্রমিক কাজ করে, প্রতিদিন গড়ে ৮ শত টাকা হতে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয় আমাদের।  শ্রমিক কেরামত আলী বলেন,  রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকা হতে বাঁশ এখানে আনা হয়, তারপর এই কার্গো ট্রলি করে কর্ণফুলি নদীতে পার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
📘 ফেসবুক ▶️ ইউটিউব