নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে দেড় কোটি টাকার মাদক উদ্ধার।
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে দেড় কোটি টাকার মাদক উদ্ধার।
তিন জন কুখ্যাত মাদক ব্যাবসায়ী ধরা পড়লেও প্রশ্নের মুখে ‘অদৃশ্য গডফাদাররা’
কল ট্র্যাকিং ও কল লিস্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে পাইকারী আড়তদার ও রাজনৈতিক শেল্টারদাতাদের ধরার দাবি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত যৌথ বাহিনীর এক চিরুনি অভিযানে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ তিনজন কুখ্যাত মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
তবে অভিযানে তিনজন ধরা পড়লেও এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের প্রশ্ন?
এত বিপুল মাদকের প্রকৃত মালিক কারা?
কার জন্য এসব মাদক মজুদ করা হয়েছিল?
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের লাভরাপাড়া এলাকার কয়েকটি পরিত্যক্ত বাড়িতে যৌথ বাহিনী এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে উদ্ধার করা হয়;
১৩৫ কেজি গাঁজা
৯ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা
২৯০ বোতল ফেনসিডিল
ফেনসিডিলের বিকল্প মাদক ‘ইস্কাব’ ১ হাজার ৩৩১ বোতল
উদ্ধারকৃত এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।
আটককৃতরা হলেন;
মোঃ তানজিদ (২৮), পিতা: মোঃ আমানউল্লাহ
মোঃ রিফাত (১৮), পিতা: আলাউদ্দিন
রিদুল (২৩), পিতা: মো: রোকন উদ্দিন
তারা সবাই নারায়ণগঞ্জ জেলা রূপগঞ্জ থানাধীন ভুলতা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
রূপগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর শরিফ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, রূপগঞ্জকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে যৌথ বাহিনী জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
বিশেষ করে ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকায় যে ভয়াবহ মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তা ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।
আসল প্রশ্ন: কার জন্য এই মাদক?
এত বিপুল পরিমাণ মাদক কোনোভাবেই তিনজন খুচরা কারবারির পক্ষে মজুদ বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়
এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এই মাদক কোন বড় পাইকারী আড়তদারের জন্য আনা হয়েছিল?
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মুন্সিগঞ্জে যারা নিয়মিত মাদক সাপ্লাই দেয়, তাদের নাম কেন এখনও প্রকাশ্যে আসছে না?
আটককৃতদের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট ও কল ট্র্যাকিং করে কেন মূল হোতাদের ধরা হচ্ছে না?
এই চক্রের পেছনে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রভাবশালী নেতা বা জনপ্রতিনিধির শেল্টার রয়েছে কি না-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে তো?
কল ট্র্যাকিং ছাড়া মাদক নির্মূল অসম্ভব;
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা একটি বড় সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো-কল লিস্ট বিশ্লেষণ, ব্যাংক লেনদেন যাচাই ও রাজনৈতিক সংযোগ খতিয়ে না দেখলে মাদক সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব নয়।
সচেতন নাগরিক ও স্থানীয়দের জোর দাবি;
আটক তিনজনের সম্পূর্ণ কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) বিশ্লেষণ করতে হবে;
মাদকের পাইকারী আড়তদার ও গডফাদারদের গ্রেপ্তার করতে হবে;
যদি কোনো রাজনৈতিক নেতা বা দলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে দল-মত নির্বিশেষে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
