২৩ মে ২০২৬, ০৯:৪৭ বিকেল
ব্রেকিং নিউজ

৩ বছরের মেয়েকে হত্যা করে ট্রাংকে লাশ লুকিয়ে রাখলেন মা, নেপথ্যে পরকীয়া সম্পর্ক।

৩ বছরের মেয়েকে হত্যা করে ট্রাংকে লাশ লুকিয়ে রাখলেন মা, নেপথ্যে পরকীয়া সম্পর্ক রিপোর্টঃঅনলাইন প্রতিনিধ গোপালগঞ্জ। ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | গোপালগঞ্জ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা নিলারমা...

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৭ বিকেল আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৯ বিকেল পঠিত: ১
৩ বছরের মেয়েকে হত্যা করে ট্রাংকে লাশ লুকিয়ে রাখলেন মা, নেপথ্যে পরকীয়া সম্পর্ক।
৩ বছরের মেয়েকে হত্যা করে ট্রাংকে লাশ লুকিয়ে রাখলেন মা, নেপথ্যে পরকীয়া সম্পর্ক

রিপোর্টঃঅনলাইন প্রতিনিধ গোপালগঞ্জ।

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা নিলারমাঠ এলাকা থেকে ফারিয়া (৩) নামের এক শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যার ১৬ দিন পর শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা সেতু বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ট্রাংকের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে গোবরা নিলারমাঠ এলাকার রুবেল শেখের সঙ্গে সেতু বেগমের বিয়ে হয়। রুবেল বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত। স্বামী প্রবাসে থাকায় প্রায় ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে ফরিদপুরের মিরাজ মোল্লার সঙ্গে সেতুর পরিচয় হয়। পরে সেই সম্পর্ক পরকীয়ায় রূপ নেয়।

পুলিশ জানায়, প্রেমের পথে সন্তান বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে মনে করে গত ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সেতু বেগম নিজের মেয়ে ফারিয়াকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর মরদেহটি বাড়ির একটি ট্রাংকের ভেতর লুকিয়ে রেখে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যান।

তবে পালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি সেতুর। প্রেমিক মিরাজ তাকে ফরিদপুরে তার মামার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সেতু স্বীকার করেন, তিনি নিজের মেয়েকে হত্যা করে ট্রাংকে লুকিয়ে রেখেছেন। শনিবার সেতুর মা ও মামা তাকে ফরিদপুর থেকে নিয়ে এসে গোপালগঞ্জ সদর থানায় সোপর্দ করেন।

পরে সেতুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ট্রাংক থেকে ফারিয়ার পচে-গলে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু বলেন, “অভিযুক্ত মা সেতু বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরকীয়া প্রেমিক মিরাজ মোল্লাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, একমাত্র নাতনিকে হারিয়ে শোকে পাগলপ্রায় ফারিয়ার দাদা ও স্বজনরা। এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।