২৩ মে ২০২৬, ০৯:৪৫ বিকেল
অপরাধ

ঈমাম সাহেবকে সীমান্ত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর থানার হেলিপ্যাড বাজার এলাকার রাস্তার পাশ থেকে গাছের সাথে হাত-পা শেকলে বাঁধা অবস্থায় মাওলানা মহিবুল্লাহ মাদানীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে গাজী...

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:১৫ বিকেল আপডেট: ২২ মে ২০২৬, ১২:৩৮ সকাল পঠিত: ২
ঈমাম সাহেবকে সীমান্ত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর থানার হেলিপ্যাড বাজার এলাকার রাস্তার পাশ থেকে গাছের সাথে হাত-পা শেকলে বাঁধা অবস্থায় মাওলানা মহিবুল্লাহ মাদানীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে গাজীপুর থেকে নিখোঁজ হন তিনি। সেদিন সকাল ১১টা পর্যন্ত তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি খোলা থাকলেও এরপর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে মুসল্লিরা ফজরের নামাজ আদায় শেষে বাসায় ফেরার পথে হেলিপ্যাড বাজার এলাকায় তাকে দেখতে পান।


এসময় তার হাত-পা লোহার শেকল দিয়ে গাছের সাথে বাঁধা ও অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে সিভিল সার্জন ডা. মো: মিজানুর রহমানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন তিনি।

খবর পেয়ে মাওলানা মহিবুল্লাহকে হাসপাতালে দেখতে যান পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবেত আলী।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাওলানা মহিবুল্লাহর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল আছে। তবে কিভাবে তিনি পঞ্চগড়ে এলেন সেই ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারছেন না।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘গতকাল সকালে হাঁটতে বের হলে হঠাৎ করে একটি গাড়ি সামনে আসে। এরপর মুখে কিছু একটা ছিটিয়ে দেওয়ার পর আমার মাথার অপারেশনের জায়গায় দুই তিনটা বাড়ি (আঘাত) দেয়। এরপর আর কিছু বলতে পারি না। এখানে আসার পর কাঁচের বোতলে পানি ভরে আমার দুই উরু, হাতে ও কোমড়ে মারধর করা হয়। আমার মাথায় আঘাত করা হয়। এখন ডান কানে শুনতে পাচ্ছি না। বসলে মাথা ঘুরে। কোমড়ে প্রচুর ব্যথা।’

এই ব্যাপারে পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, ‘মাওলানা মুহিবুল্লাহ মাদানীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওনার জ্ঞান ফিরেছে, কথা বলেছেন। টঙ্গী থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ওনার আত্মীয়রা পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।’

একদিনের ব্যবধানে মাওলানা মহিবুল্লাহকে কারা কিভাবে পঞ্চগড়ে নিয়ে এসেছে সে ব্যাপারে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় তাকে অন্যদেশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে বলেও অনেকে অভিযোগ তুলেছেন।

এইদিকে দুপুর ২টায় জেলা শহরে ইমান আক্বীদা রক্ষা কমিটির উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইসকন নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, মাওলানা মুহিবুল্লাহ মাদানী গাজীপুরের টঙ্গী টিঅ্যান্ডটি এলাকার বিটিসিএল জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মুহিবুল্লাহ মাদানী জুমার নামাজে নিয়মিতভাবে সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক মূল্যবোধের অবনতি, ইসকনের কার্যক্রম ইত্যাদি বিষয়ে সরব ছিলেন। এসব বক্তব্যের পর থেকেই তাকে লক্ষ্য করে একাধিক উড়ো চিঠির মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি তিনি পরবর্তীতে মসজিদ কমিটির সদস্যদেরও জানান।